প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পুঠিয়ায় পুকুর খনন

পুঠিয়া (রাজশাহী) সংবাদদাতা:  রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় অভিনব কায়দায় সংস্কারের নামে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও গাফিলতির কারণে এসব পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করা হলেও খাজনা আদায় করা হচ্ছে ধানী জমি হিসেবে। এতে করে সরকার প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১৪২২ বঙ্গাব্দ থেকে ধানী জমির খাজনা প্রতি শতাংশ দুই টাকা নির্ধারিত। অন্যদিকে বাণিজ্যিক পুকুরের ক্ষেত্রে পৌর এলাকায় প্রতি শতাংশ ৪০ টাকা এবং ইউনিয়ন এলাকায় ৩০ টাকা হারে খাজনা নির্ধারিত রয়েছে। তবে বাস্তবে এই নিয়ম উপেক্ষা করে পুকুর খনন করে কম হারে খাজনা দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, পুকুর খননের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে পুনঃসংস্কারের আবেদন করা হলেও যাচাই-বাছাইয়ের আগেই বিভিন্ন স্থানে খননকাজ শুরু করা হয়েছে। উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের রাতোয়াল-মালিপাড়া ও বদোপাড়া বিলের মাঝখানে প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে পুকুর খননের কাজ চলছিল বলে জানা যায়।

এ ঘটনায় অভিযান চালান লিয়াকত সালমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তবে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই খননকারীরা এক্সকাভেটর সরিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের একটি পুলিশ ফাঁড়ির সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে এসব পুকুর খনন করা হচ্ছে। ফলে প্রশাসনের অভিযান পরিচালনার আগেই সংশ্লিষ্টরা তথ্য পেয়ে সরে পড়ে, যার কারণে অভিযানে গিয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না।

এর আগে মো. নজরুল ইসলাম মন্ডল, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। এরপর কিছুদিন পুকুর খনন বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি আবারও বিভিন্ন স্থানে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সিয়াম হোসেন জানান, খননকারীরা প্রথমে তিন ফসলী জমির উপরিভাগ কেটে পুকুরের আকৃতি তৈরি করেন। পরে ওই জমিকে অনাবাদি দেখিয়ে পুকুর খননের অনুমতি নেওয়া হয়, যার সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, এমপি মহোদয়ের নির্দেশনার পর পুকুর খনন বন্ধ ছিল। তবে সম্প্রতি শিলমাড়িয়ার একটি বিলে রাতে পুকুর খননের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, পুকুর খননের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *