নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা-এ চলমান জ্বালানি তেলের সংকটকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে এক শ্রেণির অসাধু চক্র। অভিযোগ উঠেছে, সংকটকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যবসায়ী বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে তা মজুদ রেখে পরে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাতের প্রভাবে দেশে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ কমে গেছে। এতে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে তেল মজুদ বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে পুঠিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার পেট্রোল পাম্পগুলোতে একদিন পরপর সীমিত পরিসরে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে কিছু মজুদদার বিভিন্ন পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে বাড়িতে জারভর্তি করে সংরক্ষণ করছে এবং পরে তা অধিক মূল্যে বিক্রি করছে। ফলে সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত তেল পাচ্ছেন না।
ভুক্তভোগী এক মোটরসাইকেল চালক জানান, “ভোর ৫টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। শুনেছি সকাল ১০টার দিকে তেল দেবে—অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে।”
আরেকজন বাইকার জালাল বলেন, “দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা অপেক্ষার পর মাত্র ৩০০ টাকার তেল পেয়েছি।”
এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক, কৃষক ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাস বাজার মনিটরিং কার্যক্রম চালালেও অভিযোগ রয়েছে, মজুদদাররা গোপনে তেল মজুদ অব্যাহত রেখেছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, মজুদদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই সংকট নিরসন এবং বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা হোক।
