রাজশাহীতে শিশুমৃত্যু রোধে ৫ দফা দাবি, শিশু হাসপাতাল চালুর আহ্বান

রাজশাহী সংবাদদাতা  : রাজশাহীতে শিশুমৃত্যু রোধ, সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ এবং অতি সংক্রামক রোগ ‘হাম’ প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণসহ ৫ দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বরেন্দ্র অঞ্চলের যুব ও উন্নয়নভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত প্ল্যাটফর্ম বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম

রবিবার বেলা ১২টায় পৃথকভাবে স্মারকলিপি প্রদান করা হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এস.আই.এম রাজিউল করিমের বরাবর। সিভিল সার্জনের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোসাঃ মাহবুবা খাতুন।

স্মারকলিপির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পরিচালক (স্বাস্থ্য), রাজশাহী, জেলা প্রশাসক এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, চিকিৎসা একটি মৌলিক অধিকার হলেও বাস্তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসার অভাবে প্রতিনিয়ত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গত ১১ মার্চ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত মাত্র ১১ দিনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ সংকটের কারণে অপেক্ষমাণ ৩৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়। পর্যাপ্ত আইসিইউ সুবিধা থাকলে এসব প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, চিকিৎসার জন্য পরিচিত রাজশাহীতে সাম্প্রতিক সময়ে হাম রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। স্মারকলিপিতে বলা হয়, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাঁচি-কাশি ও সরাসরি সংস্পর্শে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর জটিলতায় নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখ ও মস্তিষ্কের প্রদাহসহ বিভিন্ন গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।

এ অবস্থায় আইসিইউ সুবিধার ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। অথচ রাজশাহীতে শিশুদের জন্য নির্মিত ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে চালু না হওয়ায় তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। নগরীর টিবি পুকুর এলাকায় প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালে শুরু হওয়া এ হাসপাতালের নির্মাণ কাজ ২০২৩ সালের জুনে শেষ হলেও এখনো চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়নি।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত কমিশন ২০২৫ সালের ৫ মে তারিখে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে ৪০০টির বেশি সুপারিশের মধ্যে ৩৩টি জরুরি বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় হতাশা প্রকাশ করা হয়।

উত্থাপিত ৫ দফা দাবি:
১. রাজশাহীর ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল অবিলম্বে চালু করা।
২. হাম রোগের বিস্তার রোধে কার্যকর ও জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ।
৩. সবার জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।
৪. রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং আইসিইউ সুবিধা বৃদ্ধি।
৫. একটি স্বাধীন ও স্থায়ী স্বাস্থ্য কমিশন গঠন এবং স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন নদী ও পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান আতিক, সাধারণ সম্পাদক পলি রানী, পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পাদক তামিম তুলি, সামাজিক কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সম্রাট রায়হান, আমার বাংলা তরুণ সংঘের সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ জাকি এবং নারী নেত্রী তহুরা খাতুন লিলিসহ অনেকে।

সংশ্লিষ্টরা দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *